১২ই রবিউল আউয়াল আসলেই এক ধরনের পোস্ট দেখতে পাই যে, নবিজি ﷺ এর জন্ম নাকি ১২ই রবিউল আউয়ালে নয়। সেজন্য বিভিন্ন প্রমাণ টানতে দেখি। অথচ পূর্বের যুগের জমহুরদের মশহুর ও হাদিসের রেওয়ায়েত অনুসারে সহিহ মত তারা উপেক্ষা করে যান।
رواه ابن أبي شيبة في مصنفه عن عفان، عن سعيد بن ميناء، عن جابر وابن عباس رضي الله عنهم أنهما قالا: ولد رسول الله ﷺ عام الفيل يوم الاثنين الثاني عشر من شهر ربيع الأول
হযরত ইবনে আবু শাইবা তার মুসান্নাফে আফফান থেকে, তিনি সাঈদ বিন মীনা থেকে, তিনি জাবির ও ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ হস্তিবর্ষে রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।
- সনদ সহিহ। এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করার পর ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এটাই জমহুর উলামাদের প্রসিদ্ধ মত। কিতাবের লেখক বলেন, আমি এই রেওয়ায়েত মুসান্নাফে অনুসন্ধান করে পাইনি। কিন্তু ইবনে কাসির রাহি. সহিহ রেওয়ায়েত ব্যতীত যেহেতু বর্ণনা করেননা, তাই আমরা তার উপর ভরসা করি।
এখানে এসে আমি ইসলামের একটি মৌলিক রীতি পেশ করছি, সেটা হচ্ছে ইসলামে কওল (বক্তব্য)-এর গুরুত্ব যোগ-বিয়োগ থেকে বেশি। আমি কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি।
- কুরআন মাজিদের সুরা হুজুরাতে লেখা আছে بِئْسَ الاسْم, কিন্তু আমরা পড়ি بِئْسَ لِاسْم
- একইভাবে কওলের বিসমিল্লাহি মাজরিহাকে বিসমিল্লাহি মাজরেহা পড়ি।
- হাদিস থেকে জানা যায় যে, মু’তার যুদ্ধে ২ লক্ষ খ্রিস্টান অংশগ্রহণ করে পরাজিত হয়। কিন্তু মু’তা এলাকা গবেষণা করে আধুনিক বিজ্ঞানীরা বলেন, এখানে দুই লক্ষ সৈন্য সমবেত হওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় এবং এখানে সর্বোচ্চ ১০ হাজার খ্রিস্টান ছিল এবং বিজয় খ্রিস্টানদের ছিল।
- কিন্তু আমরা এই গবেষণাকে কওলের বিপক্ষে গ্রহণ করিনা। কওলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিসে আম্মাজান আয়িশা সিদ্দিকা (রাযি.) এর বিয়ের সময়কার বয়স ৬ বছর প্রমাণিত। কিন্তু আধুনিক গবেষকরা হযরত আসমা (রাযি.) এর বয়সের সাথে যোগ-বিয়োগ করে সেটাকে ১৮ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
- এই বিষয়টিও ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব যোগ বিয়োগের কোনো মূল্যই ইসলামে নেই।
মূলকথা হচ্ছে, যেহেতু ইবনে কাসির রাহি. থেকে সহিহ সনদে কওল আমরা পেয়েছি, তাই সেটাকেই গুরুত্ব দিবো। হতে পারে, যেকোনো কারণে মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা থেকে হাদিসটি বাদ পড়ে গিয়েছে। হয়তো বা সংকলনের কারণে অথবা কপি থেকে কপি করার সময়ে বাদ পড়ে গেছে। কিন্তু কওল যেহেতু রয়েছে, ইসলামের নিয়মের কারণে এটাই প্রাধান্য পাবে।
উপরের উদাহরণের মতোই নবিজি ﷺ এর জন্ম তারিখ নিয়েও গবেষণা হয়েছে। জ্যোতির্বিদ্যা ও অন্যান্য যোগ বিয়োগ শেষে আধুনিক গবেষকরা ৯ই রবিউল আউয়াল হওয়ার বিষয়ে প্রাধান্য দিতে আগ্রহী হন। গত শতাব্দীর লেখক সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ.) তার আর-রাহিকুল মাখতুমেও এটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আর-রাহিকুল মাখতুমে তিনি আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সমন্বয় রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন, সেটা খুব একটা সমস্যার নয়। কারণ, গবেষণা করার অনুমতি অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু যদি এর উপর ভিত্তি করে আপনি বা জনসাধারণ মুতাকাদ্দিমিন নিয়ম বদলাতে সচেষ্ট হোন, তাহলে সেটা খুব একটা যৌক্তিক হবেনা।
